ফারজানা (ছদ্মনাম), ৩২ বছর বয়সী একজন সফল কর্পোরেট পেশাজীবী। ঢাকার একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে উচ্চপদে কর্মরত। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতো তার জীবনটা একদম পারফেক্ট। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তিনি ভেঙে পড়ছিলেন। অফিসের ডেডলাইন, ঢাকার অসহনীয় ট্র্যাফিক এবং বাসায় ফিরে সংসারের দায়িত্ব—সব মিলিয়ে তিনি এক তীব্র মানসিক চাপের (Chronic Stress) মধ্যে ডুবে যাচ্ছিলেন।
সমস্যা ও লক্ষণ (The Challenges) শুরুটা হয়েছিল ঘুমের সমস্যা দিয়ে। সারাদিন কাজ করার পরেও রাতে তার চোখে ঘুম আসত না, মাথায় হাজারো চিন্তা ঘুরপাক খেত। ধীরে ধীরে তিনি লক্ষ্য করলেন:
-
অল্পতেই রেগে যাওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে দুর্ব্যবহার করা।
-
সবসময় বুক ধড়ফড় করা এবং অস্থিরতা অনুভব করা।
-
কাজে মনোযোগ দিতে না পারা এবং স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া।
-
শারীরিক দুর্বলতা এবং ক্রমাগত মাথাব্যথা।
ফারহানা প্রথমে ভেবেছিলেন এটি সাধারণ কাজের চাপ, কিন্তু যখন তিনি দেখলেন যে ছুটির দিনেও তিনি রিল্যাক্স করতে পারছেন না, তখন তিনি বুঝলেন তার পেশাদার সাহায্যের প্রয়োজন।
মাইন্ড স্মাইল-এ যাত্রা (Journey with Mind Smile) ফারহানা আমাদের ওয়েবসাইটে এসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করেন। আমাদের সিনিয়র কাউন্সেলর প্রথমে তার সাথে দীর্ঘ সময় নিয়ে কথা বলেন এবং তার স্ট্রেসের মূল কারণগুলো (Triggers) চিহ্নিত করেন। এটি কেবল কাজের চাপ ছিল না, বরং “সবকিছু নিখুঁতভাবে করার” (Perfectionism) প্রবণতা এবং “না বলতে না পারা”র অভ্যাস তাকে এই অবস্থায় নিয়ে এসেছিল।
আমরা তার জন্য একটি পার্সোনালাইজড কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT) সেশন প্ল্যান করি। আমাদের পদক্ষেপে অন্তর্ভুক্ত ছিল: ১. স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট টেকনিক: তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কমানোর জন্য ব্রিদিং এক্সারসাইজ এবং গ্রাউন্ডিং টেকনিক শেখানো। ২. চিন্তার ধরণ পরিবর্তন: নেতিবাচক চিন্তাগুলো চ্যালেঞ্জ করা এবং বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা সেট করা। ৩. লাইফস্টাইল মডিফিকেশন: ঘুমের রুটিন ঠিক করা এবং নিজের জন্য সময় (Me-time) বের করা।
ফলাফল ও বর্তমান অবস্থা (The Outcome) মাত্র ৬ টি সেশনের পরেই ফারহানা তার মধ্যে আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। তিনি এখন জানেন কীভাবে কাজের চাপ সামলাতে হয় এবং কখন বিরতি নিতে হয়। তার ঘুমের সমস্যা দূর হয়েছে এবং পরিবারের সাথে তার সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক মধুর হয়েছে।
ফারহানা বলেন, “আমি ভেবেছিলাম স্ট্রেস আমার জীবনেরই একটা অংশ, যা কখনোই যাবে না। কিন্তু মাইন্ড স্মাইল আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে নিজের মনের যত্ন নিতে হয়। আমি এখন শুধু কাজই করি না, জীবনটা উপভোগও করি।”